ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
* উপাচার্য ড. সাদেকার পদত্যাগের ১ মাস

অভিভাবকহীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, স্থবির সকল কার্যক্রম

  • আপলোড সময় : ১৬-০৯-২০২৪ ০১:০৪:২১ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০৯-২০২৪ ০১:০৪:২১ অপরাহ্ন
অভিভাবকহীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, স্থবির সকল কার্যক্রম
* স্থবির হয়ে পড়েছে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিকসহ সকল কার্যক্রম
* একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট মিটিংও উপাচার্য ছাড়া সম্ভব নয়
* নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্যের দাবিতে টানা কর্মসূচি
জবি থেকে আইনুল ইসলাম
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে গত ১১ আগষ্ট পদত্যাগ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকা হালিম। একই সঙ্গে ইস্তফা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, প্রক্টরিয়াল বডি, হল প্রভোস্ট, পরিবহন প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরের প্রধানরা। এরপর এখনো নিয়োগ হয়নি উপাচার্য। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দফতরের প্রধানদের পদও শূন্য রয়েছে। হচ্ছে না সিন্ডিকেট সভা ও একাডেমিক কাউন্সিল। এতে বেড়েছে প্রশাসনিক জটিলতা। মূলত উপাচার্যহীনতায় স্থবির হয়ে পড়েছে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক কার্যক্রম।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষাসহ অন্যান্য কার্যক্রম চললেও এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই প্রক্টর। একমাত্র ছাত্রী হল প্রভোষ্টের পদ শূন্য থাকায় সেখানেও দেখা দিয়েছে সংকট। সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাচ্ছেন না হল দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। কোনো জটিলতা সৃষ্টি হলে তারও অভিযোগ জানাতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। সবার প্রশ্ন, এই স্থবিরতা কাটবে কবে? এক মাস পেরোলেও এখনো মেলেনি জবির উপাচার্য। সংকট নিরসনে সবার দাবি দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ।
উপাচার্য ড. সাদেকা হালিমের পদত্যাগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর, অবস্থান কর্মসূচি ও গেটলক কর্মসূচি, শিক্ষা সচিবকে স্মারকলিপি প্রদানসহ চলছে লাগাতার কর্মসূচি। এরই মধ্যে দেশের প্রধান সারির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ হলেও বাকি রয়েছে জবি। আন্দোলনকারীদের দাবি দ্রুততম সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হোক।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য পদে নিয়োগের জন্য তিনজন সিনিয়র অধ্যাপককে নিয়ে বিভিন্ন কথা শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও জবির বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন, সমাজকর্ম বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক রেজাউল করিম ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক পেয়ার আহমেদ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কারের জন্য অতি দ্রুত আমাদের একজন ভিসি প্রয়োজন। দীর্ঘদিন উপাচার্য না থাকায় অনেক জটিলতাও দেখা দিচ্ছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়েও উপাচার্য নিয়োগ হয়ে গেছে। আমরা অতি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকেই ভিসি নিয়োগ চাই।
ইতিহাসের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন উপাচার্য শূন্য থাকলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। আপগ্রেডেশন এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন দফতরে শূন্যতা তৈরি হয়। শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এ অবস্থায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক পরিমল বালা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকিছু কাজ রয়েছে যা উপাচার্য ছাড়া সম্ভব নয়। একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট মিটিংও উপাচার্য ছাড়া সম্ভব নয়। উপাচার্য না থাকলে এসব ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয়। দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ হলে এসব সমাধান হবে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতর প্রধানও নিয়োগ দেয়া সম্ভব হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হুমায়ূন কবীর চৌধুরী বলেন, জটিলতা প্রধানত হলো বেশকিছু সিদ্ধান্ত একাডেমি কাউন্সিলে, সিন্ডিকেট সভায় নিতে হয়। সেই মিটিংগুলো উপাচার্য আহ্বান করেন। আরেকটা বিষয় এখন প্রক্টর, প্রভোস্ট, পরিবহন প্রশাসক কেউ নেই। এটা সমস্যা। একজনকেই সবকিছু বহন করতে হয়।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য